بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ - শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

প্রকৃত জিহাদ এর পরিচয়

জিহাদ

 

জিহাদ এর আলোচনা করতেগিয়ে যারা খালি মনের জিহাদের আলোচনা কর বাট…. মনেরেখ তারা মুসলমানই না…। তবে মনেরেখ জিহাদ আর জঙ্গিবাদ(সন্ত্রাসী) একনয়…।

জিহাদ শব্দটির মূল হচ্ছেঃ
জাহাদুন ও জুহদুন। এর আভিধানিক অর্থ সংগ্রাম করা। শারীরীক কষ্ট, তীর-তরবারী চালানো, বর্শা-বল্লম নিক্ষেপ, বর্ম পরিধান, ঘোড়া ব্যাবহার আর বর্তমান যমানাহিসাবে মেশিনগান, পিস্তল, ক্লাশিনকোভ, গ্রেনেড, ট্যাংক, বোমা, ক্ষেপনাস্ত্ৰ, যুদ্ধ জাহাজ ইত্যাদি চালানোর মাধ্যমে সম্পাদিত একটি আমল। যার মধ্যে মুসলমান কাফেরকে হত্যা ও পরাজিত করলে গাজী হয়। আর কাফের কর্তৃক নিহত হলে শহীদ হয়। কাফেরের মাল ছিনিয়ে আনতে পারলে কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত কাফের বাহিনীর সম্পদলব্দ হলে সবচে পবিত্র রিযিক তথা গনীমাত হিসাবে গণ্য হয়। কাফেরদের বন্দি সৈন্য পুরুষ হলে গোলাম আর মহিলা হলে বাদী হয়। বিবাহ ব্যতীত এদের সাথে সঙ্গম বৈধ। এ সব কিছু আল্লাহর পক্ষ হতে মুসলমানদের প্রতি বিশেষ দান। এ সকল বিষয় যেখানে পাওয়া যাবে তাকেই বলে ইসলামের ভাষায়, কুরআনের ভাষায়, হাদীসের ভাষায় এবং দেড় হাজার বছরের মুসলমানদের গৌরবজ্জল ইতিহাসের ভাষায় ‘জিহাদ ফী সাবী লিল্লাহ, বাট নবিজির দাতঁ ভাঙ্গা জিহাদ আজ বৃথা………

হাসান ইবন সাববাহ (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
আমি রাসূল (সাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ইয়া রাসূল (সাঃ)! কোন কাজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘সময় মত সালাত (নামায) আদায় করা। আমি বললাম, ‘তারপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ। (সহীহ বুখারি-২৫৯১অধ্যায়ঃ৪৮)

মুহাম্মদ ইবন বাশশার(রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাঃ) বলেছেন,
জান্নাতে প্রবেশের পর একমাত্র শহীদ ছাড়া আর কেউ দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্খা পোষণ করবে না, যদিও দুনিয়ার সকল জিনিস তাঁর কাছে বিদ্যমান থাকবে। সে দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্খা করবে যেন দশবার শহীদ হয়। কেননা সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে। (সহীহ বুখারি – ২৬২২ , অধ্যায়ঃ ৪৮)

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) -কে আমি বলতে শুনেছি যে,
সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মুমিনদের এমন একটি দল না থাকত, যারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে পছন্দ করে না এবং যাদের সকল সওয়ারী দিতে পারবনা বলে আশংকা করতাম, তা হলে যারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করছে, আমি সেই ক্ষুদ্র দলটির সঙ্গী হওয়া থেকে বিরত থাকতাম না। সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আমি পছন্দ করি আমাকে যেন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, এরপর শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয়, পুনরায় শহীদ করা হয়। তারপর জীবিত করা হয়, পুনরায় শহীদ করা হয়। (সহীহবুখারি – ২৬০৪,অধ্যায়ঃ৪৮)

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) -কে বলতে শুনেছি,
আল্লাহর পথের মুজাহিদ, অবশ্যই আল্লাহই অধিক জ্ঞাত কে তাঁর পথে জিহাদ করছে, সর্বদা সিয়াম পালনকারী ও সালাত (নামায) আদায়কারীর ন্যায়। আল্লাহ তাআলা তাঁর পথের মুজাহিদের জন্য এই দায়িত্ব নিয়েছেন, যদি তাকে মৃত্যু দেন তবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা পুরস্কার বা গানীমতসহ নিরাপদে ফিরিয়ে আনবেন।(সহীহবুখারি-২৫৯৬ , অধ্যায়ঃ ৪৮)

আলী ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ইবন আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
‘(মক্কা) বিজয়ের পর আর হিজরত নেই। বরং রয়েছে কেবল জিহাদ ও নিয়্যাত। যদি তোমাদের জিহাদের ডাক দেওয়া হয়, তা হলে বেড়িয়ে পড়। ’ (সহীহ বুখারি – ২৫৯২ , অধ্যায়ঃ ৪৮)

মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রাহীম(রহঃ) বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লৌহ বর্মে আবৃত এক ব্যাক্তি রাসূল (সাঃ) – এর কাছে এসে বলল, ‘ইয়া রাসূল (সাঃ)! আমি যুদ্ধে শরীক হব, না ইসলাম গ্রহন করব?’ তিনি বললেন, ‘ইসলাম গ্রহন কর, তারপর যুদ্ধে যাও। ’ তারপর সে ব্যাক্তি ইসলাম গ্রহন করে যুদ্ধে গেল এবং শাহাদাত বরণ করল। রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘সে অল্প আমল করে বেশী পুরস্কার পেল। (সহীহ বুখারি – ২৬১৩ , অধ্যায়ঃ ৪৮)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যাক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর আসবাবপত্র সরবরাহ করে সে যেন জিহাদ করল। আর যে ব্যাক্তি আল্লাহর পথে কোন জিহাদকারীর পরিবার-পরিজনকে উত্তমরূপে দেখাশোনা করে, সেও যেন জিহাদ করল।(সহীহ বুখারি – ২৬৪৬ , অধ্যায়ঃ ৪৮)

রাসুল সা : বলেছেন ” আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা এ সাক্ষী দিবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ , তারা এ কালিমা পাঠ করলে তাদের জান ও মাল আমার হাত থেকে নিরাপদ থাকবে , ইসলামের দন্ডবিধি ছাড়া আর তাদের চূড়ান্ত হিসেব মহান আল্লাহর উপর ন্যস্ত আবু ২৬৪০ সহিহ মুতাওয়াতির ( আলবানী তাহকিক )

আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে এসে বলল, আমাকে এমন কাজের কথা বলে দিন, যা জিহাদের সমতহল্য হয়। তিনি বলেন, আমি তা পাচ্ছি না। (এরপর বললেন,) তুমি কি এতে সক্ষম হবে যে, মুজাহিদ যখন বেরিয়ে যায়, তখন থেকে তুমি মসজিদে প্রবেশ করবে এবং দাঁড়িয়ে ইবাদত করবে এবং (এতটুকু) আলস্য করবে না, আর সিয়াম পালন করতে থাকবে এবং সিয়াম ভাঙ্গবে না। লোকটি বলল, তা কার সাধ্য? আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, ‘মুজাহিদের ঘোড়া রশিতে বাঁধা থাকা অবস্থায় ঘোরাফেরা করে, এতেও তার জন্য নেকি লেখা হয়।’ (মুত্তাফাকুন আলাইহি )

আবু উমামা রা : সুত্রে বর্ণিত রাসুল সা : বলেছেন ”
যে নিজে যুদ্ধ করেনি অথবা কোন মুজাহিদকে যুদ্ধের সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দেয় নি অথবা মুজাহিদ পরিবারের উপকার করেনি আল্লাহ কিয়ামতের পূর্বে তাকে কঠিন বিপদে ফেলবেন আবু দাউদ ২৫০৩ (আলবানী তাহকিক হাসান)

আবু হুরায়রা রা : সুত্রে বর্ণিত রাসুল সা : বলেছেন ” যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে যুদ্ধ করেনি অথবা মনে যুদ্ধের তীব্র আকাঙ্খা রাখেনি তবে সে মুনাফিক অবস্থায় মারা গেল আবু দাউদ ২৫০২ ( আলবানী তাহকিক সহিহ ) সহিহ মুসলিম

Leave a Reply

Close Menu