ঈমাণ ভঙ্গের কারণ সমূহ

ঈমাণ ভঙ্গের কারণ সমূহ

আমরা অযু,নামায,রোযা ইত্যাদি ভাঙ্গার কারণ পড়ি । কিন্তু এগুলোর ভিত্তি যে ঈমানের উপর সেটা নিয়ে আমরা ভাবিনা । এমনতো নয় যে, হয়ত আমরা মনের অজান্তে এমন কাজ করে ফেলছি যা আমাদের ঈমানকে সন্দেহে ফেলে দেয় অথবা ঈমান নষ্ট বা ভেঙ্গে যায় । জেনে নেয় কিভাবে আমাদের ঈমান ভেঙ্গে যায় ।

ঈমাণ ভঙ্গের কারণ সমূহ
১.আল্লাহর ইবাদতে কাউকে শরীক করা বা অংশীদার স্থাপন করা।
দলীল:-(সূরা বনী ইসরাঈল-২২,৩৯/ মুমিনূন-১১৭/­শুয়ারা-২১৩/ মায়েদা-৩,৭২,৭৬/ আ’রাফ-১৮৮/রা’দ-১৬/ আন’আম-১৭-১৮/ যুমার-৩,৩৮,৬৫/ফুরক্বান-৩/ নামল-২৭/ফাতির-১৩-১৪/ আনকাবুত-১৭/আহকাফ-৫/ নিসা-১১৬)

২.আল্লাহ এবং বান্দার মাঝে কাউকে মাধ্যম তৈরী করে তাদেরকে ডাকা। এবং তাদের নিকট শাফায়াত কামনা করা।
দলীল:-(সূরা যুমার-৩৮,৪৪/ ইউনুস-১৮,৮৪/­মায়েদা-২৩)

৩.মুশরিকদেরকে কাফির মনে না করা অথবা তাদের কুফুরীর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা অথবা তাদের মতবাদ সমূহ সঠিক মনে করা।
দলীল:-(সূরা তাওবা-৩,২৮/ বায়্যিনাহ-৬/ বাক্বারা-২২১)

৪.নবী করীম(সাঃ)এর দেখানো পথ ব্যতীত অন্য কোন পথকে পরিপূর্ণ মনে করা।অথবা ইসলামী হুকুমাত বা শরীয়াহ ব্যতীত অন্য কারো তৈরী বিধান (বর্তমান গণতন্ত্র)কে উত্তম মনে করা।
দলীল:-(সূরা তাওবা-৩১/আহযাব-৩৬)

৫.নবী করীম(সাঃ)এর আনিত বিধানের কোন একটিকে অপসন্দ করা।যদিও সে ঐ বিষয়ের উপর আমল করে।
দলীল:-(সূরা মুহাম্মদ-৮-৯/ তাওবা-৪৮)

৬.মুহাম্মদ(সাঃ)এর আনিত ধর্ম (ইসলাম) এর কোন বিষয় অথবা ধর্মীয় ছওয়াব বা শাস্থির ব্যাপারে ঠাট্টা- বিদ্রূপ করা।
দলীল:-(সূরা তাওবা-৬৫-৬৬/ইউনুস-১১/ নিসা-১৪০/­মায়েদা-৫৭-৫৮/ বাক্বারা-১৪)

৭.যাদুর মাধ্যমে ভাল কিছু অর্জন বা মন্দ কিছু বর্জন করা।অথবা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্পর্ক স্থাপন বা ভাঙ্গন ধরাতে গোপন,প্রকাশ্য,মন্ত্র-তন্ত্র করা।অথবা কারো সাথে সম্পর্ক স্থাপন বা বন্ধুত্বে ফাঁটল ধরানো। দলীল:-(সূরা বাক্বারা-১০২
৮.মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুশরিকদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করা। দলীল:-
(সূরা মায়েদা-৫১/ মুমতাহিনা-১-২)

৯.মুহাম্মদ(সাঃ)এর আনিত শরীয়াহ ব্যতীত অন্য কোন পথে বা অন্য কোন ধর্মে জীবন পরিচালনা করলেও জান্নাত পাওয়া যাবে বা আল্লাহ সন্তষ্টি পাওয়া সম্ভব মনে করা।
দলীল:-(সূরা আলে ইমরান-৮৩,৮৫/নিসা-১১৫)

১০.আল্লাহর মনোনিত দ্বীন,ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।ইসলাম অনুসারে আমল এবং শিক্ষা গ্রহণ করতে নারাজ হওয়া। দলীল:-(সূরা সাজদাহ-২২/ কাহফ-৫৭/ত্বা-হা-১২৪-১২৬/ মুমিনূন-৭১)
অতএব,ইসলামী আক্বীদা ও তাওহীদ গ্রহণের পর যদি কেউ উপরোল্লিখিত বিষয়গুলিতে নিপতিত হয়,তবে সে ঈমাণহারা হবে বা মুরতাদ হয়ে যাবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *